বাংলাদেশ ডেস্ক
চলতি বছরের হজের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৯৯৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মোট ৯২টি ফ্লাইটে তারা জেদ্দা ও মদিনার বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বুধবার প্রকাশিত হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিন ও হেল্প ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সৌদি আরব পৌঁছানো মোট হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৩ হাজার ৭১২ জন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। হজ হেল্প ডেস্কের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৯২টি ফ্লাইটের মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৪০টি ফ্লাইট। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইন্স ৩৪টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
এদিকে সৌদি আরবে হজ পালনে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। মৃতদের সবাই পুরুষ। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ৬১ বছর বয়সী হজযাত্রী আব্দুল হাই পবিত্র মক্কায় ইন্তেকাল করেন। এর আগে আরও ৫ জন হজযাত্রী বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হজযাত্রী সেখানে মৃত্যুবরণ করলে তার মরদেহ সৌদি আরবেই দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে এবারের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ মে পর্যন্ত হজযাত্রীদের সৌদি আরবে নেওয়ার এই ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। এরপর হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ করার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজের নিবন্ধিত হয়েছেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে গত কয়েক বছরের তুলনায় হজের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কোটার পূর্ণ ব্যবহার নিয়ে চ্যালেঞ্জ থাকলেও শেষ পর্যায়ে হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।
সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মক্কায় অবস্থানরত হজযাত্রীরা বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালন এবং ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাংলাদেশ হজ মিশন থেকে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে মক্কা ও মদিনায় চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। কোনো ধরনের সংকট বা অভিযোগের দ্রুত সমাধানে আইটি হেল্প ডেস্ক এবং কল সেন্টারও সক্রিয় রয়েছে। হজের মূল পর্ব শুরুর আগেই সকল হজযাত্রীকে মক্কায় একত্রিত করার লক্ষ্যে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।