নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদক নির্মূলে বড় ধরনের এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার এই অভিযানে টঙ্গীর কুখ্যাত ‘হাজীর মাজার বস্তি’ থেকে মাদক ব্যবসা, সেবন ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে ৭৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং চুরি-ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার অন্যতম বৃহত্তম এই মাদক স্পটটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। নিয়মিত মাদক বিক্রির পাশাপাশি এখানে ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আনাগোনা ছিল বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তথ্য উঠে আসে। এরই প্রেক্ষিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. বেলায়েত হোসেনের সরাসরি নেতৃত্বে এই বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য পুরো বস্তি এলাকা কর্ডন বা ঘেরাও করে তল্লাশি চালান।
অভিযান পরবর্তী এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “হাজীর মাজার বস্তি এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা বন্ধ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এর আগেও এখানে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতরাতে পরিচালিত দীর্ঘ অভিযানে আমরা ৭৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।”
উদ্ধারকৃত মালামালের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছাড়াও নগদ টাকা এবং দেশীয় অস্ত্র সদৃশ সরঞ্জাম রয়েছে, যা মূলত ছিনতাই ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করছে পুলিশ। বস্তিবাসীদের অভিযোগ, এই এলাকায় মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠায় স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের ফলে অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া আটককৃতদের মধ্যে যারা পেশাদার অপরাধী ও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী, তাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধমুক্ত গাজীপুর গড়তে নাগরিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে হাজীর মাজার বস্তি ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।