নিজস্ব প্রতিবেদক
কুষ্টিয়া শহরের লাহিনী বটতলা এলাকায় একটি রহস্যজনক কার্টন খোলার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নাসির শেখ (৫০) নামে এক ভ্যানচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার রাত ১০টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আহত নাসির শেখ লাহিনী কর্মকারপাড়ার বাহের শেখের ছেলে। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় লাহিনী বটতলা এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি ভ্যানচালক নাসিরের সাথে কথা বলেন। তারা নাসিরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে একটি স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছোট কার্টন দেন। কার্টনটি একই গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলামের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় এবং বিনিময়ে নাসিরকে ৩০ টাকা ভাড়া প্রদান করা হয়। এরপর ওই দুই ব্যক্তি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
নাসির শেখ কার্টনটি নিয়ে হামিদুল ইসলামের বাড়িতে গেলে তিনি সেটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। জনৈক হামিদুল দাবি করেন, তার কাছে কোনো পার্সেল বা কার্টন আসার কথা নয়। বাধ্য হয়ে নাসির কার্টনটি পুনরায় লাহিনী বটতলায় নিয়ে আসেন এবং সেখানে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সামনেই কাঁচি দিয়ে কার্টনটি খোলার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কার্টনটি খোলার সময় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি দূর থেকে মুঠোফোনে সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন।
কার্টনের ভেতর থেকে একটি ছোট বাক্স বেরিয়ে আসে। নাসির বাক্সটি উল্টে দেখার চেষ্টা করতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভ্যানচালক নাসির গুরুতর আহত হন এবং পার্শ্ববর্তী একটি দোকানের ফ্রিজের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতের শরীরে বিস্ফোরণের আঘাত রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। জনবহুল এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনো পরিকল্পিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কিংবা কাউকে লক্ষ্য করে চালানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হতে পারে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। কার্টনের ভেতরে ঠিক কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল এবং কারা কী উদ্দেশ্যে এটি পাঠিয়েছিল, তা উদ্ঘাটনে কাজ শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।