ক্রীড়া প্রতিবেদক
চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কাঁধের গুরুতর ইনজুরিতে পড়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন দলের অন্যতম ভরসা নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার মিচেল স্যান্টনার। তার বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার কেশভ মহারাজকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন স্যান্টনার। বাউন্ডারি লাইনের কাছে একটি ক্যাচ তালুবন্দি করার প্রচেষ্টায় ডাইভ দিলে তার কাঁধে চোট লাগে। মাঠেই তাকে যন্ত্রণাকাতর দেখা যায় এবং পরবর্তীতে ড্রেসিংরুমে বরফ দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ওই ম্যাচে কনকাশন সাবস্টিটিউট নামাতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ডাক্তারি পরীক্ষায় তার ইনজুরি গুরুতর প্রমাণিত হওয়ায় চলতি মৌসুমের বাকি অংশে তার খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
মিচেল স্যান্টনারের বিদায় মুম্বাইয়ের জন্য কৌশলগত বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে খেলা চার ম্যাচে তিনি ৫টি উইকেট শিকার করেছিলেন। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে এবং মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রাখায় তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। ৮.৯২ ইকোনমি রেটে বোলিং করে তিনি দলের বোলিং আক্রমণে ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন। স্যান্টনারের অনুপস্থিতি কেবল একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনারের অভাব তৈরি করবে না, বরং লোয়ার মিডল অর্ডারে একজন কার্যকরী ব্যাটসম্যানকেও হারাল মুম্বাই।
স্যান্টনারের শূন্যস্থান পূরণে দক্ষিণ আফ্রিকার কেশভ মহারাজের ওপর আস্থা রেখেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ম্যানেজমেন্ট। ৩৪ বছর বয়সী এই স্পিনার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৫৪টি ম্যাচ খেলেছেন। আইপিএলে তার অভিজ্ঞতার ঝুলি খুব একটা বড় নয়; ২০২৪ সালের আসরে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), ইংল্যান্ডের ভাইটালিটি ব্লাস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ লিগে তার পারফরম্যান্স অত্যন্ত ধারাবাহিক।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসকে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে তোলার ক্ষেত্রে মহারাজের বিশেষ ভূমিকা ছিল। ওই টুর্নামেন্টে ১২ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। সামগ্রিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২০৮ ইনিংসে তার নামের পাশে রয়েছে ১৯১টি উইকেট। তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিয়ন্ত্রিত বোলিং, যা তার ৭.১২ ইকোনমি রেট থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ের মতো ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রান আটকে রাখার ক্ষেত্রে মহারাজ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অবস্থা পয়েন্ট টেবিলে অত্যন্ত নাজুক। লিগের প্রথম সাতটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পেয়ে তারা নবম স্থানে অবস্থান করছে। টুর্নামেন্টের প্লে-অফ দৌড়ে টিকে থাকতে হলে অবশিষ্ট ম্যাচগুলোতে জয়ের কোনো বিকল্প নেই দলটির সামনে। এমন সংকটাপন্ন অবস্থায় স্পিন বিভাগে বৈচিত্র্য আনতে মহারাজের অন্তর্ভুক্তি কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। মুম্বাইয়ের বর্তমান স্পিন আক্রমণে মহারাজ ছাড়াও রয়েছেন মায়াঙ্ক মারকান্দে, এএম গজনফর, রঘু শর্মা এবং অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাদের পরবর্তী ম্যাচে ঘরের মাঠে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মুখোমুখি হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে কেশভ মহারাজকে একাদশে দেখা যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে বিদেশি খেলোয়াড় পরিবর্তন দলের রণকৌশলে কতটুকু ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, তা নিয়ে ভক্ত ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। স্যান্টনারের ইনজুরি ও মহারাজের অন্তর্ভুক্তি মুম্বাইয়ের ভাগ্য ফেরাতে পারে কি না, সেটি পরবর্তী ম্যাচগুলোর ফলাফলেই স্পষ্ট হবে।