নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ সদস্যের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামগুলো ঘোষণা করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মনোনীত প্রার্থীদের নাম গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
ঘোষিত এই তালিকায় অভিজ্ঞ ও রাজপথের সক্রিয় নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হিসেবে উঠে এসেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলের প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সেলিমা রহমান বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক পটভূমি দেশের রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সাবেক বিচারপতি ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ষষ্ঠ স্পিকার মরহুম আব্দুল জব্বার খানের কন্যা। পারিবারিকভাবেই রাজনীতির আবহে বেড়ে ওঠা সেলিমা রহমান দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও সেলিমা রহমানের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার আমলে তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাজ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে তার ভূমিকা রাজনৈতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। তার এই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছে দলীয় সূত্রগুলো।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং নারী সমাজকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের মধ্য থেকেই এবারের সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের বাছাই করা হয়েছে। সেলিমা রহমানের মতো অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি তালিকায় বিভিন্ন জেলা ও অঙ্গ সংগঠনের নারী নেত্রীদেরও সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
এদিকে সংরক্ষিত আসনে সেলিমা রহমানের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতে, অভিজ্ঞ ও প্রবীণ এই নেত্রীর সংসদে উপস্থিতি দলের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।
তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের এই তালিকা খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হবে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী আনুপাতিক হারে প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী বিএনপি এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। মনোনয়ন প্রাপ্ত অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আইনজীবী, সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নবগঠিত সংসদীয় কার্যক্রমে এই মনোনয়নপ্রাপ্তরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।