নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক ক্ষেত্রে বিদ্যমান কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেকে স্বাগত জানান ড. একেএম শামছুল ইসলাম। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সামরিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যে বাতাবরণ রয়েছে, তা আগামীতে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উভয় দেশই বিদ্যমান সামরিক সম্পর্ক ও কৌশলগত বন্ধনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ফ্রান্সের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং কারিগরি সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান এবং এই ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সাথে সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস বেশ সুদীর্ঘ। স্বাধীনতার পর থেকেই ফ্রান্স বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রয় এবং কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার হওয়া বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। বিশেষ করে সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের যৌথ মহড়া বা প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয় এবং ঢাকাস্থ ফ্রান্স দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একমত পোষণ করেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও প্যারিসের মধ্যকার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপ আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শেষে রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।