নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাস করে না বরং সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীতি অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অতীতে সংবাদমাধ্যমের ওপর যে ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি আধুনিক ও স্বাধীন গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে।
সোমবার সচিবালয়স্থ গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার রোধ, সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা এবং সরকারি বিজ্ঞাপনের সুষম বণ্টনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বর্তমানে অনলাইনে গুজব, ভুল তথ্য এবং ব্যক্তিনামে চরিত্রহননের যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা প্রতিরোধে কার্যকর আইনি ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ‘ডিজইনফরমেশন’ বা পরিকল্পিত অপপ্রচার মোকাবিলা করে জনগণের কাছে নির্ভুল সংবাদ পৌঁছে দেওয়াকেই এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ করা, তথ্যের অবাধ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করা নয়।
সংলাপে প্রতিমন্ত্রী কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এবং আইপিটিভি প্রতিনিধিদের সাথে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও সম্প্রচার খাতের আধুনিকায়নে ২০১৪ সালের আইপিটিভি নীতিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতেই এই নীতিমালা যুগোপযোগী করা হবে।
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াসের খান চৌধুরী আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান শাসনামলে গণমাধ্যমকর্মীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলোতে সংবাদকর্মীদের মধ্যে যে ভীতির পরিবেশ ছিল, তা গত দুই মাসেই অনেকাংশে অপসারিত হয়েছে। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত হবে না—এটিই প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা। সাংবাদিকরা যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করছেন, সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।”
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ড এবং বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। আসন্ন জাতীয় বাজেটে সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমে শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো ধরনের কঠোরতা আরোপ না করে আলাপ-আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি নীতি-কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান।
সরকারি বিজ্ঞাপনের সুষম বণ্টন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞাপন বিতরণে অতীতে যে বৈষম্য ছিল তা দূর করতে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর ফলে ছোট-বড় সকল গণমাধ্যম তাদের সক্ষমতা ও মান অনুযায়ী বিজ্ঞাপনের ন্যায্য হিস্যা পাবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই বঞ্চিত হবে না।
সচিবালয়ে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের পেশাগত পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দকৃত বর্তমান স্থানটি অত্যন্ত অপর্যাপ্ত ও জরাজীর্ণ। একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাংবাদিকদের জন্য এমন অবহেলিত পরিবেশ থাকা সমীচীন নয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কেন্দ্রটিকে আধুনিক ও কাজের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে একটি আধুনিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নৈতিক গণমাধ্যম গড়ে তুলতে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের গঠনমূলক পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন।