বিশেষ প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার বগুড়াকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। দিনব্যাপী বগুড়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি এই নতুন সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
সোমবার সকাল ১০টায় সড়কপথে বগুড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ভোর ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে তিনি যাত্রা শুরু করেন। সফরকালে তিনি নবঘোষিত সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলেও ২০০৬ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র কিছু অবকাঠামো নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ এই ঘোষণার মাধ্যমে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে বগুড়াবাসীর প্রতি আমাদের বিশেষ দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে উন্নয়নের সুফল শুধু নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল বা গাবতলীতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এতে দেশের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলো বঞ্চিত হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে সরকার বর্তমানে সেই সমস্ত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে যা দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত ছিল।
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। উদ্ধারকৃত এই অর্থ সরাসরি সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। বিশেষ করে ‘কৃষককার্ড’ ও ‘পরিবারকার্ড’-এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের কাছে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের ফলে উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন জনপদের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পাওয়ায় রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের পরিকল্পিত নগর গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানান।
বিকেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, কৃষি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই তার সরকারের মূল লক্ষ্য। কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। নবগঠিত এই সিটি করপোরেশনকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।