সারাদেশ ডেস্ক
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় উফসী আউশ ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৬ হাজার ২০০ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা কবি নজরুল মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, কৃষকরা দেশের খাদ্য উৎপাদনের মূল ভিত্তি এবং তাদের উৎপাদিত ফসলের ওপরই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভর করে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষকদের উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত না থাকলে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এ কারণে সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
ধর্মমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদানের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ঋণ সুবিধা সহজীকরণ ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সুদসহ ঋণ মওকুফের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে খাল খনন প্রকল্পসহ সেচ ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সারোয়ার রাব্বি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু এবং কৃষক প্রতিনিধি হেদায়েত হোসেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম, মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসরুরুল হক, বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূইয়া, যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ এবং মহিলা দলের সভাপতি কাজী তাহমিনা। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা এবং ২২টি ইউনিয়নের কৃষক ও কৃষাণীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উফসী আউশ চাষ সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় মোট ১৬ হাজার ২০০ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিতরণ করা হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ধান উৎপাদনে আউশ মৌসুম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সময়ে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার সহায়তা প্রদান কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়তা করে এবং চাষাবাদে আগ্রহ বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব এবং উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সরকারি সহায়তা ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে এ সহায়তা বিতরণ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।