1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিগগিরই বিশেষ অভিযান কৃষি উন্নয়নে কৃষক কার্ড কর্মসূচি শুরু, পাঁচ বছরে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন পড়ায় কারওয়ান বাজার এলাকায় চলাচল সাময়িক বন্ধ, ১৫ মিনিট পর পুনরায় স্বাভাবিক গণভোটের অবস্থান নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য আখতার হোসেনের পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রার আগে সংস্কৃতি ও ধর্ম নিয়ে জামায়াত এমপির বক্তব্য মেট্রো রেলের বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন আটকে কারওয়ান বাজার অংশে চলাচল সাময়িক বন্ধ কানাডার ফেডারেল উপনির্বাচনে ডলি বেগমের জয়, লিবারেল পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত যাত্রাবাড়ীতে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে এক কলেজছাত্রী নিহত, আহত তিনজন টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম ও অবকাঠামো পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পারমাণবিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তেহরানের অবস্থানের ওপর: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভবিষ্যৎ কোনো সমঝোতা হবে কি না, তা মূলত ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, আলোচনার অগ্রগতি, পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তি—সব ক্ষেত্রেই তেহরানের অবস্থানই নির্ধারক ভূমিকা রাখবে।

এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন চায় ইরান স্পষ্টভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিক। এ বিষয়ে সমঝোতা হলে তা উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ইরান যদি এ ধরনের শর্তে সম্মত না হয়, সেটিও তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যেন অস্ত্র উৎপাদনের দিকে অগ্রসর না হয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, সম্ভাব্য নতুন কোনো চুক্তির ভিত্তি হবে পারমাণবিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত কিছু আলোচনায় সীমিত অগ্রগতি হলেও তা চূড়ান্ত সমঝোতার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদল তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ফলে তাদের তেহরানে ফিরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ভ্যান্স বলেন, দীর্ঘ সময়ব্যাপী আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানের আলোচনার পদ্ধতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। যদিও কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবে তা এখনো চূড়ান্ত চুক্তির জন্য যথেষ্ট নয় বলে তিনি মনে করেন।

পারমাণবিক ইস্যুর মূল বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পর্যবেক্ষণে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, এই কার্যক্রম এমন সীমার মধ্যে থাকা উচিত যাতে তা অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে অগ্রসর না হয়।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং সংবেদনশীল উপকরণের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে একটি বিস্তৃত সমঝোতার সুযোগ এখনো বিদ্যমান রয়েছে। তবে সেই সুযোগ বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে ইরানকেই। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পথ খোলা রাখতে আগ্রহী, কিন্তু ফলাফল নির্ভর করবে তেহরানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে ইরানের কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। ভ্যান্স বলেন, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বা কার্যক্রম বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি এ প্রসঙ্গে সম্ভাব্য নীতিগত ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির পর থেকে নানা রাজনৈতিক পরিবর্তন ও পারস্পরিক আস্থার ঘাটতির কারণে দুই দেশের সম্পর্ক বহুবার উত্তেজনার মুখে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চললেও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো চুক্তি হলে তা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026