জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস হয়েছে। বুধবার দুপুরের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এটি গ্রহণযোগ্যতা পায়। বিল অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধের মধ্যে থাকা দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ থাকবে।
বিল পাসের সময় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসবিরোধী আইন কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং জনমতের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে। ওই অধ্যাদেশে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। এই বিধানের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত।
প্রসঙ্গত, বিল পাসের আগে সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। অধিবেশনে সদস্যরা বাকি এজেন্ডা, প্রস্তাবিত আইন ও সংশোধনীর ওপর আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বিলটি পাসের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দেশের রাজনৈতিক পরিসরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত দলের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হওয়ার ফলে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া আইন প্রয়োগ সংস্থা এ আইন কার্যকর করতে তৎপর থাকবেন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানো হবে।
গত কয়েক মাসে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘর্ষ বৃদ্ধির পটভূমিতে সরকারের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রে জানা যায়, আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও গণহত্যা সংক্রান্ত সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
সংসদে এই বিল পাস হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হিসেবে স্থান পেয়েছে। আইন প্রণয়ন ও কার্যকরীকরণের প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, আইন প্রয়োগকারীরা এ ধরনের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের ওপর নজরদারি আরও তীব্র করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।