বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় সংসদ আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ পাস করেছে। এই সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান বৈধতাপ্রাপ্ত হলো।
আজকের অধিবেশনে দিনের সম্পূরক কার্যসূচির অংশ হিসেবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে বিলটি উত্থাপনের জন্য ফ্লোর দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে বিলটি তোলার পর স্পিকারের আহ্বানে আবার বিবেচনার জন্য তা উত্থাপন করেন। বিলের কোনো দফাওয়ারি সংশোধনী না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিল পাসের প্রস্তাবের আগে ফ্লোরে এসে বলেন, তারা বিলের একটি তুলনামূলক নথি মাত্র হাতে পেয়েছেন এবং পুরো পড়তে পারেননি। তবে স্পিকার জানান, বিলের এই পর্যায়ে আপত্তি জানানোর কোনো সুযোগ নেই। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং তা সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত সংশোধনী। পূর্বে প্রণীত সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে সংশোধনের মাধ্যমে এই বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংশোধনী প্রণয়নের মাধ্যমে আইসিটি অ্যাক্টেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১১ মে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী আনা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সংশ্লিষ্ট সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধানও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আজকের পাসকৃত বিলটি মূলত সেই অধ্যাদেশের ধারাবাহিকতা হিসেবে সংসদে অনুমোদিত হলো। এতে বলা হয়েছে, সংশোধিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের কার্যক্রম যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ধরা পড়ে, তবে তার কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা যাবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদে বিলটি অনুমোদিত হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন বিধানগুলো স্থায়ী বৈধতা পেয়েছে। তবে বিরোধী দলের কিছু অংশ বিল পাস প্রক্রিয়ার দ্রুততার বিষয়ে تحفظ ব্যক্ত করেছে। এ ধরনের আইনের প্রয়োগ এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণযোগ্য এবং সরকারের নজরদারির আওতায় থাকবে।
এই সংশোধনীর ফলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণের একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি হলো। আইনগতভাবে, এই পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সীমিত করতে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারের ক্ষমতা শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সীমিতকরণের জন্য আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছে। সংশোধনী প্রবর্তনের মাধ্যমে সরকারকে আইনের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের সুযোগ মিলেছে।