জাতীয় ডেস্ক
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করেছেন, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অজিত দোভাল। বৈঠকটি প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলে এবং তার মধ্যে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকে মর্যাদা, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ওপর জোর দেবেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই সফর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও ফলপ্রসূ ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার খলিলুর রহমান ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও জ্বালানিমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বৈঠকগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা হবে।
দুই দেশের আলোচ্যসূচিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে—পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের ভিসা বিধি-নিষেধ শিথিল করা, ভারতের স্থল ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সুযোগ পুনরায় চালু করা, আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং সীমান্তে বিএসএফের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ। ভারতীয় পক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, সীমান্তরক্ষীরা চোরাকারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, সীমান্তে গ্রেফতারকৃতদের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের পরিবর্তে আইনের আওতায় আনা উচিত।
এর আগে সোমবার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুটি দেশের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নয়নকে স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক আস্থা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফর মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেছেন, অতীতের তিক্ততা সমাধান করে জনগণ-জনগণের সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘এখন সম্পর্ক একক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, বরং জনগণ-জনগণের যোগাযোগ ও খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জিং ইস্যুগুলো সমাধান করা যেতে পারে।’
বাংলাদেশের সরকারি সূত্র জানায়, খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফর দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত কূটনৈতিক কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।