স্বাস্থ্য ডেস্ক
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে হাম নিয়ন্ত্রণের জন্য জাতীয় টিকাদান কার্যক্রম আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের টিকাপ্রাপ্যতা স্থিতিশীল এবং যথেষ্ট পরিমাণ টিকা মজুদ রয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে জরুরি নোটিশ উত্থাপন করেন। জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশে মোট ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘টিকার মজুদ পর্যাপ্ত এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও জানান, টিকার সরবরাহ ও বিতরণে দুর্নীতি ও বিলম্ব এড়াতে এবার সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলোতে টিকা কার্যক্রম চালানোর জন্য ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ টিকা বিতরণ করা হয়েছে। এক ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘হামের টিকা নিয়ে কোনো সংকট নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, কোল্ড চেন রক্ষা করে টিকার মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী সংসদে হামের টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন প্রদানের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যারা গত ৯ মাস যাবৎ বেতন পাচ্ছেন না, তাদের বেতন পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
সরকারের পক্ষ থেকে হাম সংক্রমণ নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণভাবে সক্ষম।
উল্লেখ্য, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা প্রধানত শিশুদের মধ্যে দেখা দেয়। এর প্রতিরোধে জাতীয় টিকাদান কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়ে টিকা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে সংক্রমণ রোধ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।