স্বাস্থ্য ডেস্ক
আজ (বুধবার) বাংলাদেশের সংসদে অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনের ১১ দিনের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৭১ বিধির আলোচনার সময় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রতি সচেতনতা ও সহানুভূতির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, “রোগীকে ভয় দেখানো নয়, সাহস দেয়া প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “আমি তো জানতাম আমি ৩০০ জন সংসদ সদস্যের সামনে কথা বলছি। ৩০০ জন হামের রোগীর সামনে তো আমি কথা বলছি না।”
রুমিন ফারহানা হামে আক্রান্ত রোগীদের তথ্যাবলী সংসদে উপস্থাপন করেন এবং সংসদে রোগীদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে থাকা সদস্যরা সকলেই সন্তানের পিতা, এবং শিশুদের মৃত্যু কেবল পরিসংখ্যান নয়; এটি একটি পরিবারের জন্য চিরস্থায়ী শোকের বিষয়। তিনি সংসদে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যে পরিসংখ্যানগুলো আমরা দিচ্ছি, সেই শিশু কোনো না কোনো পিতার কাঁধে কবরে গেছে। তাই এটাকে কেবল পরিসংখ্যান হিসেবে না দেখে পরিবারের ধস, মায়ের কান্না এবং পিতার আর্তনাদ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।”
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামের রোগীদের ভয় দেখালে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। তিনি সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রসঙ্গে বলেন, “আল্লাহর রহমতে আমরা সকলেই সন্তানের পিতা। সন্তানের মৃত্যু হলে পিতার কাঁধে যে ভার পড়ে, তা আমরা সবাই জানি।” তিনি আরও বলেন, “ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন নিশ্চিত করেছে, দেশের মধ্যে ৪১ জন হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। তবে সংসদে আমি কাউকে বলতে নিষেধ করিনি; শুধু প্যানিক না সৃষ্টি করার জন্য সতর্ক করেছি। আমরা কার্যকরভাবে এর বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছি।”
রুমিন ফারহানা সংসদে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি ডাটাবেসের প্রয়োজনীয়তা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণকে সতর্ক করা এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশুদের জীবন রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
সংসদে স্বাস্থ্য বিষয়ক এ আলোচনায় হামের বিস্তার ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি সহানুভূতি ও মানসিক সমর্থনের গুরুত্ব বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ মুহূর্তে দ্রুত প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং হাসপাতাল ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
সরকারি ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামের প্রাদুর্ভাব বিশেষত শিশুদের মধ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সংসদীয় আলোচনায় এই রোগের প্রতি দৃষ্টিকোণ কেবল স্বাস্থ্য বিষয়ক নয়, সামাজিক ও পারিবারিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তুলে ধরা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের কাছে এ বিষয়টি তুলে ধরার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আশা করছে, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।