আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং মনিটরিং সংস্থা মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর প্রণালীটি অতিক্রম করা প্রথম জাহাজগুলো ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত হয়েছে।
মেরিনট্র্যাফিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিক মালিকানাধীন বাল্ক ক্যারিয়ার এনজে আর্থ ৮:৪৪ ইউটিসি-তে প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। এর আগে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ডেটোনা বিচ ৬:৫৯ ইউটিসি-তে প্রণালী অতিক্রম করে। ডেটোনা বিচ বন্দর আব্বাস থেকে ৫:২৮ ইউটিসি-তে যাত্রা শুরু করেছিল। মেরিনট্র্যাফিকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে এখনও শত শত জাহাজ অবস্থান করছে, যার মধ্যে রয়েছে ৪২৬টি ট্যাঙ্কার, ৩৪টি এলপিজি ক্যারিয়ার এবং ১৯টি এলএনজি জাহাজ। এদের মধ্যে অনেক জাহাজ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কার্যত আটকা পড়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলে তেলের সরবরাহে অভূতপূর্ব ব্যাঘাত ঘটেছে। অনুমান করা হচ্ছে, দৈনিক প্রায় ১ থেকে ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গেছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ১৫ শতাংশের সমান। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
জেপি মরগ্যানের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত থাকে, তবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারের সর্বকালের সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে তেল-নির্ভর অর্থনীতিসমূহে।
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ট্রানজিট রুটগুলোর মধ্যে একটি। প্রায় ২০ শতাংশ বৈশ্বিক তেল সরবরাহ এই প্রণালীর মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। প্রণালীতে সাময়িক বন্ধ থাকা বা চলাচলে বিঘ্ন বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য ওঠানামার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া, প্রণালী অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও এলএনজি ক্যারিয়ারগুলোর নিরাপত্তা ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মেরিনট্র্যাফিকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে হলেও পুনরায় শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ও তেল শিপিং সংস্থাগুলো প্রণালী ব্যবহারের পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতে বিভিন্ন বিকল্প রুট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নজর দিচ্ছে।