বিনোদন ডেস্ক
বলিউড অভিনেতা সালমান খান পানমশলা বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত মামলায় সাময়িক আইনি স্বস্তি পেয়েছেন। রাজস্থান উচ্চ আদালত ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা ভোক্তা কমিশন-২-এ হাজিরা দেওয়ার তার বাধ্যবাধকতা এবং তার বিরুদ্ধে previously জারি করা জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি আপাতত স্থগিত করেছেন।
মামলার সূত্রপাত হয় যোগেন্দ্র সিং বাদিয়ালের করা এক অভিযোগ থেকে। অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পানমশলার বিজ্ঞাপনে পণ্যকে ‘জাফরান বা তবক মিশ্রিত এলাচ’ এবং ‘জাফরান মিশ্রিত পানমশলা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অভিযোগকারীর মতে, এই ধরনের প্রচার ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছে এবং পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ভুল ধারণা সৃষ্টি করছে।
এরপর বছরের শুরুতে জয়পুর জেলা ভোক্তা কমিশন এই পণ্যের বিজ্ঞাপনে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে পরে জয়পুর ও কোটার মতো শহরে পুনরায় বিজ্ঞাপন প্রচার দেখায় কমিশন মনে করে, তাদের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। সেই কারণে কমিশন সালমান খানের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
আইনগত প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত সংস্থা পরবর্তী সময়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে। তাদের আইনজীবীদের দাবি, অভিযোগকারী নিজে ওই পণ্যের ভোক্তা নন এবং এ ধরনের বিষয় মূলত কেন্দ্রীয় ভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের অধীনে আসে। সালমান খানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপিত পণ্যটি গুটখা বা পানমশলা নয়, বরং এটি রুপালি তবকযুক্ত সুগন্ধি এলাচ, ফলে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যৌক্তিক নয়।
রাজস্থান উচ্চ আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শুনার পর তিনটি আদেশের উপরই স্থগিতাদেশ দেন। আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত সালমান খান বড় ধরনের আইনি জটিলতা থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি পেয়েছেন।
আইনি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই স্থগিতাদেশ মূলত আদালতের সাময়িক ব্যবস্থাপনা, যা দীর্ঘমেয়াদি মামলার সমাধান নয়। পরবর্তী শুনানিতে আদালত সম্পূর্ণ ন্যায্য সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মামলার ফলাফল এবং ভোক্তা কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ শিল্পের বিজ্ঞাপন নীতি এবং ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিতর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।