আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক বক্তব্যবিনিময়ে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ভারতের সম্ভাব্য ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’-এর জবাবে কলকাতা পর্যন্ত হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পাকিস্তানকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার সতর্কবার্তা দেন। উভয় পক্ষের এই বক্তব্য ২০২৫ সালের পাহেলগাম হামলার বার্ষিকীকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে খাজা আসিফ বলেন, ভারত যদি কোনো ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তবে পাকিস্তান তার প্রতিক্রিয়া সীমিত রাখবে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, সম্ভাব্য এমন কোনো ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করার প্রচেষ্টা হতে পারে এবং এতে আটক পাকিস্তানি নাগরিক বা অন্যান্য ব্যক্তিদের ব্যবহার করা হতে পারে। পাকিস্তান শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত ও পরিকল্পিত জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কেরালায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিলে তার জবাব হবে নজিরবিহীন ও কঠোর। তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের পাহেলগাম হামলার পর ভারতের সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তর এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে অভিযান পরিচালনা করেছে।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘অপারেশন সিনদুর’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানে স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। তাদের দাবি, এতে অন্তত নয়টি সন্ত্রাসী শিবির ধ্বংস করা হয়েছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল সংঘটিত পাহেলগাম হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। ভারত ওই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে, যদিও পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করে। ঘটনার পর উভয় দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে টানাপোড়েন বৃদ্ধি পায়।
পরবর্তীতে মে মাসে পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত করতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলে দুই দেশই সীমিত পর্যায়ে উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ নেয়। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন এই দুই দেশের মধ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উভয় পক্ষের সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।