বাংলাদেশ ডেস্ক
সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সব ধর্মাবলম্বীর ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধি দলের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন। ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল এ সাক্ষাতে অংশগ্রহণ করে।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সব ধর্মাবলম্বীর সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। ‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার’—এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতার বিকাশকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও সমর্থন রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশের প্রতিফলন। এর মাধ্যমে অতীতের কিছু ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিভিন্ন খাতে চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান ছিল। অর্থনীতি, যোগাযোগসহ একাধিক খাতে পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে তিনি জানান।
সভায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ এবং ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের প্রতিনিধি খ্রীস্টেফার অধিকারী। তারা সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন এবং এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এ সময় প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে খ্রিষ্টান নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং ইস্টার সানডে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধি দলের উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন। সভার শেষে ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।