শিক্ষা ডেস্ক
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। মাউশির বাজেট শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন ও মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত বরাদ্দ মূলত প্রশাসনিক ব্যয়, অবকাঠামো মেরামত, সরঞ্জাম ক্রয় এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধে খরচ করা হবে। মাউশি জানিয়েছে, বরাদ্দের আওতায় বিদ্যালয়গুলো ২০২৪-২৫, ২০২৩-২৪ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরের বকেয়া পাওনাদি পরিশোধ করতে পারবে। খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক ব্যয়, জ্বালানি (পেট্রল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট), ভ্রমণ ও বদলি ভাতা, মুদ্রণ ও মনিহারি, সাধারণ সরবরাহ ও কাঁচামাল এবং যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সদ্য সরকারি করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীরা মাউশির পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো বকেয়া বেতন বা ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না। এছাড়া, শ্রান্তি বিনোদন ছুটির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের অধীনস্থদের ছুটি মঞ্জুর করবেন এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ছুটি মঞ্জুর করবে শিক্ষা অধিদপ্তর।
বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যয় নির্বাহকারী কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
এছাড়া, আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে বরাদ্দের অব্যয়িত বা উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রেক্ষাপট তৈরি হবে।
বাজেট বৃদ্ধির ফলে বিদ্যালয়গুলো অবকাঠামোগত সংস্কার ও সরঞ্জাম উন্নয়নের পাশাপাশি পূর্বের অর্থনৈতিক দায়-দায়িত্ব সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে, যা দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা খাতের সামগ্রিক কার্যকারিতা ও শিক্ষার্থীসেবা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।