জাতীয় ডেস্ক
নবনিযুক্ত ৪২টি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জেলা পরিষদ প্রশাসকদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ সরকার দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। নিয়োগের পর প্রশাসকদের সঙ্গে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে প্রশাসকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং তাঁদের কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, জেলা পরিষদকে জনগণের নিকটবর্তী একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়াতে প্রশাসকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া, স্থানীয় সরকার কাঠামোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রশাসকদেরকে স্বচ্ছতা বজায় রেখে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। জনসেবামুখী কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পাশাপাশি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন এবং প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জেলা পরিষদ দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক প্রশাসক নিয়োগ এবং তাঁদের সঙ্গে এই বৈঠককে স্থানীয় প্রশাসনকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি এবং জনসেবার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে কার্যকর ফলাফল পেতে প্রশাসকদের দক্ষতা, সমন্বয় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ এবং স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলোকে আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।