বিনোদন ডেস্ক
ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AISA) ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য সরব হয়েছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওড়িশা পুলিশের তথ্যানুযায়ী তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিংয়ের জন্য প্রযোজনা সংস্থা প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তদারকি ছাড়াই কীভাবে শুটিং চলছিল। প্রথমে বলা হয়েছিল, রাহুল প্যাকআপের পর দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হন; পরে পরিচালক দাবি করেছেন, শুটিং চলাকালীনই ঘটনাটি ঘটেছে। এই বিবৃতি পরিবর্তনও সন্দেহ তৈরি করেছে।
ঘটনার সাথে যুক্ত ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’-এর প্রযোজনা সংস্থা লীনা গঙ্গোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, চিত্রনাট্যে কোনো জলের দৃশ্য ছিল না। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, যদি চিত্রনাট্যে জলের দৃশ্য না থাকতো, তাহলে শুটিং চলাকালীন গভীর জলে কীভাবে অভিনেতা তলিয়ে গেলেন।
অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন রাহুলের মৃত্যুর বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের, এবং সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিকের প্রযোজক, প্রযোজনা সংস্থা ও চ্যানেলকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাবনা তুলেছে। রাহুলের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিও করা হয়েছে।
সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষ প্রায়শই খরচ কমানোর জন্য শিল্পীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আপস করে থাকেন। ফলত, কর্মী ও শিল্পীদের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি বছর এমন দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ইউনিটের কর্মী ও শিল্পীরা প্রাণ হারান। দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরনের বিষয়গুলো প্রায়শই ধামা চাপা দেওয়া হয় এবং দোষীদের শাস্তি হয় না।”
দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন পক্ষ দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। প্রযোজনা সংস্থার দায়িত্বে অনিয়ম, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং অনুমতি ছাড়াই শুটিং পরিচালনার বিষয়গুলো তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের।
এ ঘটনায় বিনোদন ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে জোরালো সতর্কবার্তা দিয়েছে। শিল্পী ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করা, নিরাপত্তার অবহেলা এবং অনুমতি ছাড়া শুটিং পরিচালনার মতো বিষয়গুলো দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে বহুল আলোচিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।