জেলা প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রোববার (১ মার্চ) মোট ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সাতটি আগমনী (এরাইভাল) এবং তিনটি প্রস্থানের (ডিপার্চার) ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফ্লাইটগুলো আজ দিনের বিভিন্ন সময়ে যাত্রী পরিবহনের জন্য নির্ধারিত ছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যগামী এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগমনী সব ফ্লাইট এই সিদ্ধান্তের আওতায় এসেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থার প্রভাব বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ দেখা যাচ্ছে। দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় অনেক যাত্রী বিমানবন্দর থেকে ফিরে যাচ্ছেন, আবার যাদের ফ্লাইট গভীর রাতে নির্ধারিত ছিল, তাদের বিমানবন্দরে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। এ অচলাবস্থার সমাধি কখন হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য এখনও জানা যায়নি।
শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন এখানে প্রায় দেড় শতাধিক ফ্লাইট ওঠানামা করে। এর মধ্যে অধিকাংশের চলাচল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে। এই ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা যাত্রীদের যাত্রা পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যাত্রীদের তথ্য প্রদান ও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং আকাশসীমা বন্ধের কারণে বিমান চলাচলে এই ধরনের ব্যাঘাত স্বাভাবিক। যাত্রীদের জন্য ত্রুটি নিরসন, ফেরত পরিকল্পনা এবং বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা নেয়া এখন অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।