অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সরকার আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নতুন জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের প্রস্তুতি নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি পরিষ্কার করেছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। মজুদ জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন, পেট্রল ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন।
বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান মজুদ দেশের মোট চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে আগামী ১৫–১৬ দিনের জন্য পর্যাপ্ত। এছাড়া, এই সময়ে কয়েকটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মজুদ এবং আগত সরবরাহের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশজুড়ে তেলের কোনো তাত্ক্ষণিক ঘাটতির আশঙ্কা নেই। তবে বিশ্ববাজারে তেলের অস্থির পরিস্থিতি এবং সরবরাহ চেইনের সম্ভাব্য বিলম্ব দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে জনগণকে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অপ্রয়োজনীয় চাহিদা এড়াতে সতর্ক থাকা জরুরি। এ সময় ডিজেল ও পেট্রল সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য এবং আপডেট বিপিসির ওয়েবসাইট ও সরকারি সূত্র থেকে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে যানবাহন ও শিল্পখাতের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় দৈনন্দিন সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত দেখা দেবে না। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এতে বোঝা যায়, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আপাতত স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠাপড়া ও সরবরাহ চেইনের কার্যকারিতা মনিটর করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে যাবে।