সারাদেশ ডেস্ক
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় টাঙ্গাইল-যমুনা মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে মোট ৪৬ হাজার ৯৪৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। একই সময়ে সেতু থেকে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টায় পারাপার হওয়া যানবাহনের মধ্যে ঢাকাগামী ছিল ১৯ হাজার ৪৪৫টি। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৪৯৮টি, যেখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা।
ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ জেলায় ফিরছেন। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা সেতু এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চাপ আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সেতুর উভয় পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য দুই পাশে পৃথকভাবে দুটি করে বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে যানবাহনের চাপ সামাল দিতে সহায়তা করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
যমুনা সেতু ১৯৯৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এটি দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার যানবাহন সেতুটি অতিক্রম করে। তবে ঈদসহ বড় ছুটির সময় এই সংখ্যা দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, চালকদের অসতর্কতা এবং সড়ক দুর্ঘটনা ঈদযাত্রায় যানজটের অন্যতম কারণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে ও স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।