জাতীয় ডেস্ক
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ার উদ্দেশ্যে রাজধানী বা বিদেশে বাড়ি নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের সেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নই তাদের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউআই আলীম মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৫৮৮ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় কেউ যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি এবং জনগণের জন্য কাজ করব। কেউ যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার কোনো ক্ষমা নেই। আমাদের আর কোনো ব্যক্তিগত ইস্যু নেই। আমরা ঢাকায় বাড়ি বানাব না, বিদেশেও বাড়ি বানাব না কিংবা কানাডায় গিয়েও বাড়ি নির্মাণের প্রশ্নই ওঠে না।”
তার বক্তব্যে দেশের উন্নয়নের জন্য নতুনভাবে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি বলেন, অতীতের ক্ষতি বা সীমাবদ্ধতা নিয়ে বেশি সময় ব্যয় না করে ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা একটি টেকসই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এজন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা। এর মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলো বিভিন্ন সহায়তা ও সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে, যা তাদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণই মূল শক্তি। জনগণের সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া সম্ভব নয়। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সুবিধাভোগীদের হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।