ক্রীড়া প্রতিবেদক
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য আজ সোমবার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করতে পারেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এই দল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় চোটের কারণে দলের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখন অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষক এবং ফুটবল সংশ্লিষ্টদের একাংশের ধারণা ছিল, দীর্ঘস্থায়ী চোটের কারণে হয়তো আসন্ন বিশ্বকাপে নেইমারের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের পারফরম্যান্স এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সেই সমীকরণ অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, আক্রমণভাগের এই অভিজ্ঞ তারকা ফুটবলারের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা এখন প্রবল। এমনকি তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসও ইতোমধ্যেই আভাস দিয়েছে যে, সোমবার ঘোষিত চূড়ান্ত স্কোয়াডে নেইমারের নাম থাকার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে নেইমারের মাঠে ফেরা এবং নিয়মিত ম্যাচ খেলার বিষয়টি ম্যানেজমেন্ট ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আনচেলত্তি উল্লেখ করেন, গুরুতর চোট কাটিয়ে ওঠার পর নেইমার নিয়মিত ম্যাচ খেলছেন এবং ধীরে ধীরে নিজের চেনা ছন্দ ও ফর্ম ফিরে পাচ্ছেন। তবে অভিজ্ঞ এই ফুটবলারকে স্কোয়াডে রাখার সিদ্ধান্ত কেবল তার অতীত রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং নকআউট পর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার একক দক্ষতায় ম্যাচের ভাগ্য পরিবর্তন করার ক্ষমতার কথা বিবেচনা করেই কোচিং স্টাফরা এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে দল ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে তরুণ উদীয়মান তারকা এস্তেভাওর ইনজুরি। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এই তরুণ ফরোয়ার্ডের আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিকল্পনা ও আক্রমণভাগে এস্তেভাও অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অপরিহার্য সদস্য হয়ে উঠেছিলেন। তার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিটকে পড়া বা অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের কৌশলে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে, যা পূরণে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের অন্তর্ভুক্তি এখন সময়ের দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন সময়ে গুরুতর এসিএল (অ্যান্টিরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ইনজুরিতে পড়েন নেইমার। এরপর অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হওয়ায় দীর্ঘ প্রায় তিন বছর তিনি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে পারেননি। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শীর্ষ গোলদাতা ও এই মহাতারকা ফুটবলার সব বাধা পেরিয়ে আবারও বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চূড়ান্ত পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আজ ল্যাটিন আমেরিকার এই পরাশক্তির চূড়ান্ত দল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে হেক্সা মিশনের যাত্রায় নেইমারের ওপর কতটা ভরসা রাখছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।