1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধ রুখতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল, ভিএআর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দালিচ ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে নকআউটে পর্তুগাল, রোনালদোর ম্যাচসেরা হওয়া নিয়ে বিতর্ক বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিল আলজেরিয়া ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, বিমান অগ্নিদগ্ধ লস অ্যাঞ্জেলেসে নাইট রাইডার্স গ্রুপের বিশ্বমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম উদ্বোধন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন: যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা জারি

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৪৭ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (ডি আর) কঙ্গো এবং উগান্ডায় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। কঙ্গোতে সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবে গত এক মাসে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভাইরাসের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিস্তার রোধে এই জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচও’র আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, ডি আর কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে ৮০ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪৬ জন রোগী ইবোলার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে এদের মধ্যে আটজনের শরীরে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। কঙ্গোতে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ছয়জন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্ত নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’ নামের এই ভাইরাসের এ পর্যন্ত ছয়টি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে; যার মধ্যে জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি অন্যতম। ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে প্রধানত ‘জাইর’ প্রজাতির মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ালেও, কঙ্গো ও উগান্ডার বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতিটিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই নতুন প্রজাতির বিস্তার ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ইবোলা মূলত মানুষ এবং প্রাইমেট গোত্রীয় প্রাণী যেমন শিম্পাঞ্জি, গরিলা ও ওরাংওটাং-এর শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। এটি বায়ুবাহিত রোগ নয়; বরং আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি কিংবা মলমূত্রের মতো শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। এছাড়া আক্রান্তের ব্যবহৃত সুঁই, পোশাক এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মৃতদেহের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ফলখেকো বাদুড়কে এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যারা নিজেরা আক্রান্ত না হলেও ভাইরাস বহন করে। বন্য হরিণ, বনমানুষ ও সজারুর মাধ্যমেও এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকে তীব্র জ্বর, প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও মাংসপেশিতে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। রোগের পরবর্তী ধাপে ডায়রিয়া, বমি, ফুসকুড়ি এবং লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পায়। চূড়ান্ত পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটে, যার ফলে একে ‘হেমারোজিক ফিভার’ বলা হয়।

বায়ুবাহিত না হওয়ায় ইবোলার সংক্রমণ হার অন্যান্য ভাইরাসের চেয়ে কম হলেও এর মৃত্যুহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইবোলায় গড় মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সূত্রমতে, কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে এই হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বর্তমানে ইবোলা ভাইরাসের কেবল ‘জাইর’ প্রজাতির জন্য ‘এরভেবো’ এবং ‘সাবডেনো’ নামক অনুমোদিত টিকা ও মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির বিরুদ্ধে এগুলো কার্যকর না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমানে আক্রান্তদের মূলত রিহাইড্রেশন ও রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে সহায়ক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা জারির ফলে আক্রান্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সহায়তা ও গবেষণার গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026