তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) মালিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকরপোরেটডের মালিকানাধীন ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ ‘ইনস্টাগ্রাম’ নিয়ে মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। অনলাইন ট্রেন্ড-সম্পর্কিত একটি আলোচনার সূত্রে তিনি ইনস্টাগ্রামকে ‘মেয়েদের জন্য’ বলে অভিহিত করেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে নেটিজেন এবং প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি এক্সে মানুষের অনলাইন অভ্যাস ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে একটি থ্রেড ভাইরাল হয়। ওই থ্রেডে ইনস্টাগ্রামে নিয়মিত স্টোরি আপলোড, ঘরে তৈরি খাবারের ছবি শেয়ারিং এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রবণতার উল্লেখ ছিল। সেই আলোচনার জবাবে মাস্ক মন্তব্য করেন, ইনস্টাগ্রাম মূলত নারীদের জন্য উপযুক্ত। পরবর্তীতে তিনি আরেকটি মন্তব্য যোগ করে লেখেন, মাঝেমধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষেরা যখন তাকে নিজেদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল পাঠান, তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লিঙ্গ পরিবর্তনের (ট্রানজিশনিং) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন কি না।
মাস্কের এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক ব্যবহারকারী এই মন্তব্যকে লিঙ্গবৈষম্যমূলক, আপত্তিকর এবং অনভিপ্রেত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ব্যবহারকারীদের একাংশ মাস্কের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার নীতি ও তার বয়স উল্লেখ করে পাল্টা সমালোচনা করেন। তবে কিছু ব্যবহারকারী ব্যঙ্গাত্মক উপায়ে পুরুষদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বৈচিত্র্য নিয়ে মন্তব্য করেন, আবার কেউ কেউ মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুয়া প্রোফাইলের আধিক্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
মেটার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার। এর আগে তিনি হোয়াটসঅ্যাপের ডেটা সুরক্ষার নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছিলেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মাস্ক প্রায়শই প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলোর সমালোচনা করে এক্সকে একটি বিকল্প এবং অপেক্ষাকৃত উন্মুক্ত মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল নিয়ে থাকেন।
এই বিতর্কের নেপথ্যে মাস্কের পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তিগত অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। ২০২২ সালে মাস্কের সন্তান ভিভিয়ান জেনা উইলসন আইনগতভাবে নিজের নাম ও লিঙ্গ পরিবর্তন করেন এবং বাবার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। এই ঘটনার পর মাস্ক একাধিক সাক্ষাৎকারে উদারপন্থী ও অতিরিক্ত সচেতনতার সংস্কৃতি বা ‘ওক কালচার’কে তীব্রভাবে দায়ী করেন এবং একে একটি সামাজিক ব্যাধি বা ‘ভাইরাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের এমন ব্যক্তিগত ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবহারকারী বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক সুনামে প্রভাব ফেলে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।