বিনোদন ডেস্ক
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ঘোষণা এলেও আবারও নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’। কবি জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমার সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদার আবারও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় এর মুক্তি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে কয়েক দফা মুক্তির তারিখ পেছানোর পর গত ১৫ মে প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রের বিশেষ পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে ঈদে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭০ লাখ টাকা সরকারি অনুদান পাওয়া এই সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ২০২৪ সালেই চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে কয়েক দফায় এর মুক্তি পিছিয়ে যায়। সিনেমাটিতে কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার এবং তার সমাদৃত কবিতা ‘বনলতা সেন’-এর কেন্দ্রীয় ও রহস্যময়ী চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা।
ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া অভিনেত্রী নাবিলার দীর্ঘ বিরতির পর এই সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরার কথা রয়েছে। সহ-প্রযোজকের আইনি পদক্ষেপের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নানা গুঞ্জন তৈরি হলেও প্রধান অভিনেত্রী বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। আইনি জটিলতা ও প্রেক্ষাগৃহে ফেরা প্রসঙ্গে নাবিলা জানান, দীর্ঘদিন পর ঈদে তার অভিনীত দ্বিতীয় সিনেমা মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত আনন্দের, তবে একই সঙ্গে কিছুটা উৎকণ্ঠাও কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সমস্যাগুলোর সমাধান নিশ্চিত হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও পোস্টার উন্মোচন করা হয়েছিল, ফলে সঠিক সময়েই সিনেমাটি মুক্তি পাবে বলে তিনি আশাবাদী।
ঈদুল আজহার মতো বড় উৎসবে অন্যান্য বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে এই ভিন্নধর্মী সিনেমার প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের দর্শক এখন বিভিন্ন ঘরানার এবং রুচিশীল সিনেমা গ্রহণ করছেন। ফলে সুস্থ ধারার এই চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে ইতিবাচক সাড়া পাবে। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে অন্যান্যের মধ্যে আরও অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকিদ ও শরিফ সিরাজ। আইনি জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটিয়ে সিনেমাটি নির্ধারিত সময়ে প্রেক্ষাগৃহে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ও সাধারণ দর্শকরা।