জাতীয় ডেস্ক
ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদ অধিবেশন দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অতীতের সংসদীয় কার্যক্রমে যে নেতিবাচকতা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করে একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল সংসদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি মূলত নতুন সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিধি-বিধান ও সংসদীয় আচরণ সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল সংসদ প্রত্যাশা করে আসছে। ভবিষ্যৎ সংসদ অধিবেশন সেই প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, সংসদীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করাই নতুন সংসদ সদস্যদের অন্যতম দায়িত্ব হবে।
তিনি জানান, দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে সংসদের রুলস অব প্রসিডিউর, পার্লামেন্টারি প্র্যাকটিস, কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টসহ সংসদ পরিচালনার বিভিন্ন নীতিমালা ও পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া সংসদের রীতিনীতি, রেওয়াজ এবং সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন সংসদ সদস্যদের সংবিধান, সংসদীয় বিধিমালা এবং সংসদের প্রচলিত রীতিনীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। সে লক্ষ্যে কর্মশালায় সংবিধানের প্রাসঙ্গিক ধারা, সংসদের রুলস অব প্রসিডিউর এবং হাউসের কাস্টমস কনভেনশন নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব দেশে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে, সেসব দেশের সংসদীয় কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকও আলোচনা করা হয়।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভূমিকা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন, তাদের সামনে নতুনভাবে কাজ শুরু করার সুযোগ রয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জনের মাধ্যমে তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, নতুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমে দায়িত্বশীল আচরণ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মশালার আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের প্রস্তুত করতে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের সংসদীয় বিধি-বিধান, কার্যপ্রণালি এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য সংসদ সদস্যদের সংসদীয় বিধি-বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রণয়ন, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা—এই তিনটি প্রধান দায়িত্ব পালনে সংসদ সদস্যদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি প্রয়োজন।
এই প্রেক্ষাপটে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা বিস্তারে একটি প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংসদ সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংসদ অধিবেশনে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও সুদৃঢ় হতে পারে।