সারাদেশ ডেস্ক
রাজধানীর খালগুলো পুনরুদ্ধার এবং সঠিকভাবে প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য সব ধরণের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি আরও জানান, খাল দখলদারদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয়া দেবে, তাদেরও আইন অনুযায়ী দণ্ডিত করা হবে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুগদা থানাধীন মান্ডার শাপলা সিটি এলাকায় খাল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য খালগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করে সঠিকভাবে প্রবাহ বজায় রাখা। একই সঙ্গে খালের দুপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে খাল পুনরায় ভরাট বা দখলের সুযোগ বন্ধ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খালের সব প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে এবং খালকে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা হবে। দখলদারদের বিষয়ে আমরা সজাগ। যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়া দেবে, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খাল সংরক্ষণ এবং তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব বর্তমান সময় স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশনের ওপর অর্পিত। ইতিমধ্যেই খালের অবৈধ দখল রোধ, পানি প্রবাহ সুগম করা এবং স্থানীয় পরিবেশের উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে।
বাংলাদেশে নগরায়ন ও দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে রাজধানীর খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে আক্রান্ত। অবৈধ দখল, পলি মাটি ফেলা, এবং স্থাপনা নির্মাণের কারণে অনেক খাল চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে শহরের জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়েছে। সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার এ সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন ও নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তারা খালের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। খালের পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির অংশগ্রহণও প্রয়োজনীয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পর খালের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে। এটি শুধুমাত্র পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং শহরের জলবায়ু ও পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পুনরুদ্ধারকৃত খাল এলাকায় ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য সংস্কৃতিগত ও বিনোদনমূলক সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সর্বশেষ, খালের অবৈধ দখল রোধ, পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং শহরের পরিবেশ উন্নয়নে এই উদ্যোগ একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি সংস্থাগুলো নিয়মিত মনিটরিং ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।