ক্রীড়া ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘর্ষের প্রভাব আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে পড়ায় ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে কয়েকটি দলের ক্রিকেটারদের। এর মধ্যে অন্যতম ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা থেকে তাদের দেশে ফেরানোর জন্য চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খেলোয়াড়দের চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফেরানো সম্ভব হবে। তবে চূড়ান্ত বিমান চলাচলের অনুমোদন পাওয়ার ওপরই বিষয়টি নির্ভর করছে। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের পর থেকেই দলের ম্যানেজমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) নিয়মিত সমন্বয় সভা ও আলোচনা চালিয়ে আসছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে। এই জটিলতা কাটিয়ে খেলোয়াড়দের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ড সব ধরনের প্রস্তুতি এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
ভারতের বিপক্ষে সুপার এইটের ম্যাচে হারের পর থেকেই দল কলকাতায় অবস্থান করছে। দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা ব্যক্ত করে লিখেছেন, “আমি শুধু বাড়ি যেতে চাই।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কয়েকজন ক্রিকেটারও অনলাইনে হালকা রসিকতা করেছেন। বিশেষ করে অলরাউন্ডার আকিল হোসেন এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যেন তাদের সাহায্য করেন, কারণ সম্প্রতি রিয়াদে ঘটানো ইরানের হামলার পর তিনি ব্যক্তিগত চার্টার বিমানে সৌদি আরব ত্যাগ করেছিলেন। তবে বাস্তবে, বোর্ডের উদ্যোগে দ্রুত চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে দলের ঘরে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে সুপার এইটের ম্যাচে আকিল হোসেন বিশেষ নজর কেড়েছেন। মার্চ ১, ২০২৬, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তিনি অভিষেক শর্মার উইকেট নিয়ে মাঠে কার্যকর উপস্থিতি দেখিয়েছেন। তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন বিষয়ক আলোচনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে গুরুত্ব পেয়ে উঠেছে।
এ ঘটনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের নিরাপদ ফেরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের জন্যও বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক খেলোয়াড় নিরাপদভাবে তাদের দেশ ফিরবেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে।