জাতীয় ডেস্ক
সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেলের অপব্যবহার ও পাচার রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিজিবি সীমান্ত এলাকায় বিশেষ তল্লাশি ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও শুরু করেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ১২টায় ভারত সীমান্তবর্তী ভোমরা জিরো পয়েন্টে সাতক্ষীরা-৩৩ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর প্রভাবে দেশীয় জ্বালানি খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
বিজিবি অধিনায়কের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি কার্গো যানবাহন যেন কম জ্বালানি নিয়ে ঢুকে বাংলাদেশের বাইরে ট্যাংক পূর্ণ করতে না পারে এবং দেশি কার্গো যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল বহন করে বাইরে না যায়, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। এছাড়া সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সঠিক বিপণন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে।
পাচারের সম্ভাব্য রুটগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া ছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যকর রাখতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু সরবরাহ ও দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বজায় রাখা সহজ হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর সাদমান সাদিক, উপ-সহকারী পরিচালক মাসুম বেগ এবং মিডিয়া কর্মকর্তা মিলন হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি আশা করছে, সীমান্তে তল্লাশি ও সচেতনতা বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তেল পাচারের ঝুঁকি কমাবে।