আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলা ইরানের ওপর সাত দিনের মধ্যে সপ্তম দিনে প্রবেশ করেছে। দুই দেশ যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। একই সময়ে, ইরান আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) শনিবার (৭ মার্চ) জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের আব্বাস বন্দর থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সকালবেলায় ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের গভীরতা প্রায় ১০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া, এ ঘটনার ফলে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে, গত মঙ্গলবার একই অঞ্চলে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, ইরানের আকাশ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক হামলা ও ভূমিকম্পের সম্মিলিত প্রভাব ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
ইরানের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর ইতিহাসে সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে ভূমিকম্পের ঘনিষ্ঠ সংঘটনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে। ভূমিকম্পের মাত্রা ৪-এর উপরে হলেও ক্ষয়ক্ষতি সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে ঘনবসতি অঞ্চলে তা মানুষ ও অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক হামলার চাপ ও ভূমিকম্প একত্রে দেশের অবকাঠামোগত দুর্বলতাকে প্রকাশ করতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের আব্বাস বন্দর, যেখানে সামরিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে, সেখানে ভূমিকম্প এবং হামলার কারণে সরাসরি বা পরোক্ষ প্রভাব পরিলক্ষিত হতে পারে।
ইরানের সরকার এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও জরুরি সেবা সংক্রান্ত প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক হামলা ও ভূমিকম্প একসঙ্গে চলার ফলে জনসাধারণের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত স্থায়িত্বে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভূমিকম্প ও সামরিক চাপের সম্মিলিত প্রভাব দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্যিক লজিস্টিক এবং সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে, মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার কর্মকাণ্ডের চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা এবং ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে ইরানের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষত আব্বাস বন্দর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প এবং সামরিক হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং প্রভাব আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।