1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
নবীন সংসদ সদস্যরা খামখেয়ালি আচরণ না করে স্পিকারকে অবিভাবক হিসেবে মেনে চলবেন : তথ্যমন্ত্রী ইরান-যুক্ত হামলা ও ভূমিকম্পে দেশ কেঁপে উঠল খালের পুনঃউদ্ধারে বাধা সরানো ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব নেপালের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহ এগিয়ে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরার পথে বাধা চট্টগ্রাম বন্দরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের জাহাজ পৌঁছানো শুরু ইরান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চলছেই সাতক্ষীরা সীমান্তে তেল পাচার রোধে বিজিবির বিশেষ তল্লাশি ও সচেতনতা অভিযান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন জুলাই আন্দোলনের গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

জুলাই আন্দোলনের গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আহত ছাত্রদল নেতা মুহাম্মদ বাবলু (২১) দীর্ঘ চিকিৎসার পর শনিবার (৭ মার্চ) সকালেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন খাদ্যনালীর ক্যান্সারে (Gastro-esophageal Adenocarcinoma Grade-III) ভুগছিলেন।

বাবলু ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের আবুল কাশেমের ছেলে। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের টঙ্গী বেপারীবাড়ি এলাকায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। তিনি টঙ্গী সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং বাংলাদেশ ছাত্রদলের টঙ্গী ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখার দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে অসুস্থতা দেখা দেয়ায় চিকিৎসকের কাছে গেলে তার খাদ্যনালীতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর রাজধানীর ধানমন্ডির নিউ লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাবলুকে মোট আটটি কেমোথেরাপি নিতে হতো, যার মধ্যে তিনটি সম্পন্ন হয়েছিল। প্রতিটি কেমোথেরাপির জন্য প্রায় ৪০ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছিল। কেমোথেরাপির পর তাকে জটিল অস্ত্রোপচার করাতে হতো, যার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ কয়েক লাখ টাকার বেশি।

পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য তাদের সঞ্চিত অর্থ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং এই অর্থসংকটের কারণে চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। বাবলুর চিকিৎসা চলাকালীন তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবরকম চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘদিনের ক্যান্সারের জটিলতার কারণে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বাবলু ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরা বিএনসি সেন্টার এলাকায় আওয়ামী স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আহত হন। ওই ঘটনায় তার বুকে ছররা গুলি লাগে, যা তার দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনের শুরু হিসেবে দেখা দেয়।

চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরও বাবলুর শারীরিক অবস্থার অবনতি অব্যাহত থাকে। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করেছিলেন যে রোগের প্রকোপ ও জটিলতার কারণে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া কঠিন। পরিবারের বরাতে জানা গেছে, বাবলুর মৃত্যু এলাকায় ও ছাত্রদলের মধ্যে শোকের ছায়া নেমেছে।

বাবলুর মৃত্যু স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে একটি শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারা তার সাহস ও রাজনীতির প্রতি সমর্পিততার কথা স্মরণ করে বলছেন যে, তার নীরব অবদানের প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবিত করবে।

চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা বলেন, Gastro-esophageal Adenocarcinoma একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ক্যান্সার, যা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা না পড়লে চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। রোগী ও পরিবার উভয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এই ধরনের রোগের ক্ষেত্রে সময়মতো নিরীক্ষণ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাবলুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের আহতদের মধ্যে এক পরিচিত মুখ আর নেই। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন শাখা শোক প্রকাশ করেছে। পরিবার ও সহযোগীরা জানান, তিনি সদা কর্মঠ, দায়িত্বশীল ও সাহসী ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তরুণদের মধ্যে প্রেরণার উৎস হিসেবে থেকে যাবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026