আইন আদালত ডেস্ক
ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-২-এ চার বোতল বিদেশি মদ রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ৯ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণার জন্য আলাদা দিন নির্ধারণ করা হতে পারে বা একই দিনে রায়ও প্রদান করা যেতে পারে।
মামলায় মোট তিনজন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। মামলার বাদী সিআইডির সাইবার তদন্ত শাখার উপ-পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার ১৫ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য দেন। এরপর মঙ্গলবার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক জামাল উদ্দিন ও শাহিনুল ইসলাম আদালতে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম তুষার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাদী প্রশান্ত কুমার সিকদার আদালতে জানান, ২০১৮ সালের ৬ জুন পান্থপথে অবস্থিত আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের কার্যালয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতারের সময় আসিফ আকবরের অফিস কক্ষে চার বোতল টাকিলা মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদ পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য অধিদফতরে পাঠানো হয়।
মামলাটি ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই তেজগাঁও থানায় দায়ের করা হয়। মামলাটি ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ৩৬(১) টেবিলের ২৪(ক) ধারায় দায়ের করা হয়েছে। এই ধারায় লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ দখলে রাখা বা সংরক্ষণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে নির্ধারিত।
ফৌজদারি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ এক আইনজীবী জানান, এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামিকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। আদালত চাইলে উভয় দণ্ড একসঙ্গে প্রদানের সুযোগ রাখে। তবে কারাদণ্ডের সুনির্দিষ্ট মেয়াদ ও অর্থদণ্ডের পরিমাণ নির্ভর করে মামলার প্রমাণ, জব্দকৃত আলামতের পরিমাণ, অপরাধের পরিস্থিতি এবং আদালতের বিবেচনার ওপর। চূড়ান্ত রায় প্রদানের এখতিয়ার একমাত্র বিচারকের।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ৯ মার্চ যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে, যার পর আদালত রায়ের জন্য পৃথক দিন নির্ধারণ করতে পারে অথবা একই দিনে রায় ঘোষণাও সম্ভব।