বাংলাদেশ ডেস্ক
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে মঙ্গলবার দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং হামলার ফলে “সীমিত মাত্রার অগ্নিকাণ্ড এবং ভবনের সামান্য ক্ষয়ক্ষতি” হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর সৌদি সরকারের নির্দেশে জেদ্দা, রিয়াদ ও জাহরানে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনের কর্মীরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ পেয়েছেন। এছাড়া অঞ্চলে অবস্থিত যেকোনো সামরিক স্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় রিয়াদের কূটনৈতিক কোয়ার্টারে কালো ধোঁয়া এবং বিস্ফোরণের শব্দ লক্ষ্য করা গেছে। এই হামলা ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হানার জবাবে চালানো সর্বশেষ আক্রমণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ড্রোন হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান চলাচলেও সরাসরি প্রভাব পড়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের উদ্দেশে ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটসের ৪টি, গালফ এয়ারের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ১২টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৪টি।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। এসব তথ্য মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা থেকে মোট ১৪৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এসব দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় উড়োজাহাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং যাত্রার সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের সমন্বয় করছে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সময়সূচির পরিবর্তন প্রবাসী শ্রমিক ও ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যেই টিকিট বুকিং বা ফেরতের বিষয়ে পরিকল্পনা করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক হামলার জবাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে পারে। বিমান চলাচলে এই ধরনের ব্যাঘাত সাময়িক হলেও অর্থনৈতিক ও যাত্রীসুবিধার ওপর তা প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।