আইন আদালত ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এই মামলায় আইভীর গ্রেফতারের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাছুম বিল্লাহ। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় আগুনে পুড়ে নিহত হন সেলিম মন্ডল।
আইভীর বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মোট ১১টি হত্যা ও হত্যা চেষ্টার মামলায় তিনি আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ফতুল্লা থানায় বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা এবং সদর মডেল থানায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও হামলার অভিযোগে করা মোট পাঁচ মামলায় গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পেয়েছিলেন। পাঁচ মামলায় জামিন পাওয়ার একদিনের মধ্যে আরও একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হলো।
সেলিম মন্ডল হত্যা মামলার বাদী ওয়াজেদ আলী ২০২৪ সালের ৩০ জুন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় তিনি আগুনে পুড়ে নিহত হন। তদন্তকারীর অভিযোগ, সাবেক মেয়র আইভী এই ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আইভীকে বর্তমানে কারাগারে রাখা হয়েছে।
আইভীর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় সতর্কতা অবলম্বন করছে। গত বছর ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবন চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জেলা ও শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটর করছে।
আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হত্যাসহ সরকারি কাজে বাধা ও সহিংসতার অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান, এবং এসব মামলার ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আদালত সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।