1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন, অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে নতুন নিয়োগ মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প, বাংলাদেশেও কম্পন অনুভূত পিলখানার শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণে উদ্যোগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনায় সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান তামান্না ভাটিয়ার আর্থিক পরিকল্পনার গুরুত্বে জোর দীর্ঘ ৭ মাসের বিরতির পর নিলয় আলমগীরের নতুন নাটকের শুটিং শুরু নারায়ণগঞ্জে পিতা-পুত্রের ওপর হামলায় এক ব্যক্তি নিহত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বয়স ও নেতৃত্ব নিয়ে মার্কিন জনমত বিভক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ, প্রাক্তন ছাত্র গ্রেফতার

জামায়াতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

 

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে নজর কষছে রাজনৈতিক দলগুলো। সম্প্রতি সংসদে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল হিসেবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থীর মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি দেশব্যাপী বড় জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে।

জামায়াত ইতিমধ্যেই সিটি করপোরেশনের মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থী প্রস্তাবনা পাঠাতে বলেছে। প্রাথমিকভাবে চলতি সপ্তাহে সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের সম্ভাব্য নাম তালিকাভুক্ত হবে। এরপর উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। দলটি প্রতিটি পর্যায়ে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচন করতে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

সরকারি পর্যায়ে স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত আইন এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করেছে। এই সংশোধিত আইন নতুন সংসদে অনুমোদন পেলে নির্বাচন আবারও নির্দলীয় পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের এই প্রস্তুতি প্রমাণ করে যে দলটি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি তৃণমূলের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে চায়। ২০২৪ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৭৭ আসন জয়ী হওয়া দলটি ঢাকার দুই সিটির অন্তর্গত ১৫টি আসনের মধ্যে ৭টিতে জয়ী হয়েছিল। যদিও সরকার সম্প্রতি দেশের ৬টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে, যা রাজনৈতিক দলগুলোতে সমালোচনার বিষয় হয়েছে।

জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, তারা তৃণমূলের কর্মীদের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য শুধু পারদর্শী প্রার্থী নয়, বরং স্থানীয় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ আইটি টিম গঠন করা হয়েছে। মাঠে ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য বিশাল স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

জামায়াতের অতীতের স্থানীয় নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে তারা ৩৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ১২৬টি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান ও ২৬টি উপজেলায় নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছিল। ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭৯টি চেয়ারম্যান পদে দল সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়। ২০১৯ সালে চারটি পৌরসভায় জয়ী হয়েছিল জামায়াত।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে নাকি জোটবদ্ধ হবে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসে নি। তবে শীর্ষ নেতৃত্ব নির্দেশ দিয়েছেন, আপাতত প্রতিটি আসনে স্বতন্ত্র শক্তি প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজধানীর দুই সিটিতেই মেয়র পদে দল-সমর্থিত প্রার্থী থাকা নিশ্চিত করা হবে। দক্ষিণ ও উত্তরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া ঢাকায় মেয়র পদে জোট শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা আছে, তবে কাউন্সিলর পদে সমঝোতা করা যেতে পারে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, প্রার্থীদের প্রস্তাবনা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো জোট সমঝোতার প্রয়োজন নেই, দলের প্রার্থীরা নিজেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026