আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জংকে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) মঙ্গলবার জানিয়েছে, কিম ইয়ো জংকে পূর্ণ বিভাগীয় পরিচালক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এর আগে তিনি উপবিভাগীয় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
সাম্প্রতিক পদোন্নতি অনুযায়ী, কিম ইয়ো জংকে সম্ভবত প্রচার বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই বিভাগের কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আন্তঃকোরীয় সম্পর্ক, বহিরাগত নীতিমালা পর্যবেক্ষণ এবং বিদেশি কৌশল তদারকি। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সূত্র অনুযায়ী, কিম ইয়ো জং দীর্ঘদিন ধরেই তার ভাই কিম জং উনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত।
পিয়ংইয়ংয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনে কিম জং উনকে দলের মহাসচিব হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করা হয়েছে। এই পুনর্নির্বাচনের ফলে তার নেতৃত্ব প্রায় ১৫ বছরের দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হয়েছে। কংগ্রেসে একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দেশের আগামী পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক এজেন্ডা নির্ধারণ অন্যতম। কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম জং উন এই সময়কে ‘পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতির পর্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে চিন্তাধারা, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
উত্তর কোরিয়ার এই শীর্ষ সম্মেলন পাঁচ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে দেশের নীতি নির্ধারণ, কূটনীতি, সামরিক প্রস্তুতি এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার দলীয় প্রতিনিধি পিয়ংইয়ংয়ে ভিড় করেন।
কিম ইয়ো জং ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কিম জং উনের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করেন। ২০১১ সালে তাদের পিতার মৃত্যুর পর কিম জং উন ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে কিম ইয়ো জং দ্রুত রাজনৈতিক পদে উন্নীত হন। ২০১৮ সালে আন্তঃকোরীয় সম্পর্ক উন্নয়নের সময় তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং শীতকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে দেশ সফর করেন।
উত্তর কোরিয়ার সরকার প্রায়শই কিম ইয়ো জংয়ের নাম ব্যবহার করে নিজেদের নীতি ব্যাখ্যা করে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সমালোচনা করে থাকে। কেসিএনএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিম ইয়ো জংয়ের পদোন্নতির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন তার ভাই আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত ও উন্নত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
একই সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং কিম জং উনকে দলের নেতা হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কিম ইয়ো জংয়ের রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কিম জং উনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির এজেন্ডা দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতিতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষ করে কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পদোন্নতি এবং পুনর্নির্বাচনের মাধ্যমে কিম পরিবার উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তাদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ কূটনীতি, অর্থনৈতিক নীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।