রাজনীতি ডেস্ক
ইফতারের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিবের জন্য দোয়া চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর এক নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পূর্বমুহূর্তে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দোয়া কামনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে ফাতিমা তাসনিম জুমা লেখেন, ইফতারের আগ মুহূর্তে তিনি ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিবের জন্য দোয়া করেছেন এবং ভাই হিসেবে বোনদের জন্য তাঁর প্রচেষ্টাগুলো আল্লাহ কবুল করুন—এ কামনা করেছেন। পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দেশের অন্যতম একটি ছাত্রসংগঠন, যা একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিভিন্ন সময় সাংগঠনিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটি ধর্মীয় আয়োজনকেও তাদের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্রদল সম্প্রতি ‘হিফজুল কোরআন ও কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর দ্বিতীয় সিজন ঘোষণা করেছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ ও ২ মার্চ প্রাথমিক যাচাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে এবং ৪ মার্চ চূড়ান্ত যাচাইপর্ব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক যাচাইপর্ব রাজধানীর হাকিম চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত পর্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজন করা হবে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, হিফজুল কোরআন ও তেলাওয়াত—এই দুই বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কোরআন শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং ধর্মীয় চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনাই আয়োজনের উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুরস্কারের বিষয়ে জানানো হয়েছে, প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হবে। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী পাবেন নগদ ৩০ হাজার টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে দেওয়া হবে নগদ ২০ হাজার টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট। এছাড়া চতুর্থ থেকে দশম স্থান অধিকারীদের জন্য আকর্ষণীয় উপহারসামগ্রী ও সম্মাননা ক্রেস্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ধর্মীয় ও সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘিরে অতীতে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আয়োজিত প্রতিযোগিতার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নজর রয়েছে।
ডাকসু নেত্রীর ফেসবুক পোস্ট এবং ছাত্রদলের ঘোষিত প্রতিযোগিতা—উভয় বিষয়ই শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।