ক্রীড়া প্রতিবেদক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়া ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল এবার ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হোঁচট খেল। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে সুপার এইট পর্বের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের কাছে ৭৬ রানে পরাজিত হয়ে ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
টস জিতে আগে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল ১৮.৫ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলের ব্যর্থ ব্যাটিং ও অপর্যাপ্ত রান রেটে ভারত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চাপের মুখে পড়েছে।
আইসিসি ইভেন্টের সব সংস্করণ মিলিয়ে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে একই ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর এটিই ভারতের প্রথম পরাজয়। এই হারের ফলে ভারতের নেট রান রেট নেমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৩.৮০০। ফলে শেষ চারে ওঠার জন্য তাদের বাকি দুই ম্যাচ জিততেই হবে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবং ১ মার্চ কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে ভারত।
ভারতের এই হারের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমিরের আগে দেওয়া একটি মন্তব্য। ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, ভারত সেমিফাইনালে উঠতে পারবে না। ভারতের হারের পর পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তাকে ‘জ্যোতিষী’ বলে রসিকতা করা হয়। এ বিষয়ে আমির হেসে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তার কথাকে বাড়াবাড়ি করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের হারের প্রভাব শুধুমাত্র ম্যাচ ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমীকরণকে আরও জটিল করেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে এসে নেট রান রেট ও পয়েন্ট টেবিলের অবস্থার কারণে ভারতের সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য আর কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা ২৬ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন, ভারতের ব্যাটিং একাদশে একাধিক অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটারের সমন্বয় সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পারফরম্যান্সের ঘাটতি স্পষ্টভাবে প্রভাব ফেলেছে। সুপার এইট পর্বের বাকি দুই ম্যাচে জয় ছাড়া ভারতের সেমিফাইনাল সম্ভাবনা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।