1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মন্ত্রী লিফটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে শৃঙ্খলা প্রদর্শন করলেন ইসরাইলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনের নিন্দা করেছে বহুজাতিক দেশসমূহ বাহরাইনে ড্রোন হামলায় অ্যামাজনের ক্লাউড সেবা ব্যাহত, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব বৃদ্ধি প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করায় প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শনিবার এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে কেন্দ্র সচিবদের জরুরি নির্দেশনা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১০,৯৯০ ডলার নির্ধারণ ফাইনাল টিকিট ১০ হাজার ডলারের বেশি, বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ডায়নামিক প্রাইসিং শুরু শেখ হাসিনার পক্ষে চিঠি প্রাপ্তির কোনো তথ্য নেই: চিফ প্রসিকিউটর স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন, নড়াইলের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন

বাংলাদেশে গানম্যান বরাদ্দ: কোন প্রক্রিয়ায়, কারা পান এবং কী বলছে আইন

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে গানম্যান বা সশস্ত্র দেহরক্ষী পাওয়া কোনো সাধারণ বা স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। এটি মূলত ব্যক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং গোয়েন্দা মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে সরকার বিশেষ বিবেচনায় দিয়ে থাকে। কারও জীবন বা নিরাপত্তার প্রতি বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য হুমকি থাকলেই কেবল রাষ্ট্র এ ধরনের সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।

পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কোনো সাধারণ নাগরিক যদি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা অনুভব করেন, তাহলে তাকে লিখিতভাবে পুলিশের কাছে বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা বা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ তদন্ত শুরু করে। এতে দেখা হয়, আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাস্তব কি না, নাকি প্রভাব বিস্তার বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আবেদন করা হয়েছে। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং তুলনামূলকভাবে কঠোর।

নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রমাণিত হলে সাধারণত মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রোটেকশন ইউনিট বা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে গানম্যান বা বডিগার্ড নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বডিগার্ডরা সাধারণত প্রোটেকশন ইউনিট থেকে এবং গানম্যানরা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, সব ধরনের গোয়েন্দা যাচাই শেষে প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যকে গানম্যান হিসেবে নিয়োজিত করা হয়। যদিও এই নিয়োগ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে হয়, তবে যাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তার মতামত ও ব্যক্তিগত সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। কারণ নিরাপত্তা কার্যক্রম কার্যকর করতে পারস্পরিক বিশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

একজন সরকারি গানম্যান রাষ্ট্রীয় অস্ত্র ব্যবহার করেন এবং তার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ গুলি বরাদ্দ থাকে। যেহেতু তিনি সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন, তাই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য ব্যয়সহ সার্বিক খরচ সরকারই বহন করে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কার্যালয়ের নিরাপত্তার প্রয়োজনে আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের আওতায় কিছু পদে থাকা ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সশস্ত্র নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। এ তালিকায় রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সচিব বা সমপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আবেদন ছাড়াই নির্দিষ্ট প্রটোকল অনুযায়ী গানম্যান বা দেহরক্ষী বরাদ্দ দেওয়া হয়।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা বলেন, যে কেউ চাইলে পুলিশের কাছে নিরাপত্তার আবেদন করতে পারেন, তবে ব্যক্তিগত গানম্যান বা বডিগার্ড দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেয়। বিশেষ করে নির্বাচনী সময় বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঝুঁকির বাস্তবতা যাচাই করা বাধ্যতামূলক।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, কোনো নাগরিক যদি মনে করেন তার জীবন হুমকির মুখে রয়েছে, তাহলে তিনি আদালতের কাছেও পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে কাকে কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ও নীতিগত বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্রহণ করে।

এদিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গানম্যান রাখার সুযোগও রয়েছে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের নামে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকতে হবে অথবা নিয়োগকর্তার অস্ত্রের লাইসেন্সে তাকে ব্যবহারকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানি থেকেও নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী নেওয়া যায়। তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরকার বিশেষ বিবেচনায় লেখক, বুদ্ধিজীবী, বিচারক, সাংবাদিক ও গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের জন্য গানম্যান বা দেহরক্ষী বরাদ্দ দিয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইন, গোয়েন্দা তথ্য এবং ঝুঁকির বাস্তবতা—এই তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026