1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
হায়দরাবাদে কবরস্থানে লুকানো ৪১৪টি গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ, ১০ জন আটক দেশে তেলের কোনো সংকট নেই: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রীর একদিনের ১৬ ঘণ্টার দাপ্তরিক কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর একদিনের ১৬ ঘণ্টার দাপ্তরিক কার্যক্রম সরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় পরিবর্তন: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যক্রম মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে অপসারণ, পেন্টাগনে অস্থিরতার মধ্যে নতুন বিতর্ক একনেকের প্রথম বৈঠক ৬ এপ্রিল, ১৭ প্রকল্প উপস্থাপনের প্রস্তুতি মন্ত্রী লিফটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে শৃঙ্খলা প্রদর্শন করলেন ইসরাইলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনের নিন্দা করেছে বহুজাতিক দেশসমূহ

প্রধান উপদেষ্টা ও কোইকা প্রেসিডেন্টের বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৮ বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) প্রেসিডেন্ট চ্যাং ওন-সামের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই পক্ষ উন্নয়ন সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকের শুরুতে কোইকা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও জোরদারের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। চ্যাং ওন-সাম বলেন, কোরিয়া বাংলাদেশকে সবসময় একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এবং বিদ্যমান প্রকল্পগুলো আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কোইকা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, দেশটি উৎপাদনভিত্তিক শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করেন যে উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সক্ষমতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দেশের শিল্প ও সেবাখাতকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, দক্ষ কর্মী তৈরি করতে এসব খাতের ওপর জোর দিলে দেশীয় শ্রমবাজার যেমন উন্নত হবে, তেমনি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে মানবসম্পদ উন্নয়নকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন, যাতে বাংলাদেশি যুবকরা কোরিয়ায় চাকরির সুযোগ লাভে আরও প্রস্তুত হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রশিক্ষণ খাতে কোইকার সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষ নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির মাধ্যমে দেশীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবদান বাড়বে। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে থাকায় এই খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।

কোইকা প্রেসিডেন্ট চ্যাং ওন-সাম প্রধান উপদেষ্টার প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি জানান, কোইকা দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর-সংক্রান্ত নতুন প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো যৌথভাবে চিহ্নিত করা হলে দু’দেশের উন্নয়ন-অংশীদারিত্ব আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে যাবে। বর্তমানে কোইকার মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি সেবা ডিজিটাইজেশন, নারী ক্ষমতায়ন এবং যুব উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করে। তারা মনে করেন, রপ্তানি সুবিধার পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ—এসবই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে সহায়তা করবে। এই প্রেক্ষাপটে কোরিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে উভয়পক্ষ সমর্থন জানায়।

বৈঠকের সময় ভবিষ্যতে উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নে যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রাথমিক প্রস্তাবনাও উঠে আসে। বিশেষ করে, শিল্পখাতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতে দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যা দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026