কোনো দেশের প্রকৃত শক্তি ও সমৃদ্ধি কেবল তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্সের উচ্চ সূচক কিংবা বিশাল ভৌত অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। একটি রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কতটা সম্মানজনক স্থান দখল করবে, তা নির্ভর করে সেই দেশের তরুণ প্রজন্মের নৈতিকতা, মানবসম্পদের গুণগত মান এবং জ্ঞানার্জনের গভীরতার ওপর। সম্প্রতি সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের চারজন তরুণ হাফেজ ও হাফেজা যে অভূতপূর্ব গৌরব বয়ে এনেছেন, তা কেবল ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত সাফল্যের উদযাপনে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁদের এই বিশ্বমঞ্চের বিজয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, তা আমাদের দেশের সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থার জন্য এক নতুন যুগের বার্তা বহন করে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, দেশের সন্তানরা তাঁদের মেধা, পরিশ্রম ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো যা কিছুই অর্জন করুক না কেন, সরকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সেই অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে এবং মূল্যায়ন করবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ছেলেরা ও মেয়েরা যেন নিজেদের, দেশের এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনতে পারে, রাষ্ট্র তার পুরো শক্তি ও সামর্থ্য নিয়ে তাঁদের পাশে থাকবে। এই বক্তব্যটির তাৎপর্য অনেক গভীরে প্রোথিত।