বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটি তার প্রথম সরকারি সফর। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত এই জনপদে উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান তিনি। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করার পর রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সফরসূচি অনুযায়ী, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ছাড়াও সফরকালে রাষ্ট্রপতি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া সফরের প্রথম দিনে তিনি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।
নাগরিক সংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা দীর্ঘদিন ধরে নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং বন্ধ থাকা বিমানবন্দর চালুর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বেকারত্ব দূর করতে তরুণদের কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।
দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষের পথ পরিহার করে আলাপ-আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দীর্ঘ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করতে দেশের সব নাগরিককে সজাগ ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শহরের প্রধান সড়ক, বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাতায়াতপথ ও কর্মসূচিস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতির ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করার কথা রয়েছে।