রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অন্তত ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
দুপুরে বিদ্যালয়ের নিয়মিত স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিম ও পাউরুটির প্যাকেট বিতরণ করা হয়। খাবার গ্রহণের কিছু সময় পর পৌনে দুইটার দিকে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ পেটে ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯ জন ছাত্রী ও ২ জন ছাত্র রয়েছে। তাদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী তারা চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার জানান, শিশুদের মূল সমস্যা ছিল তীব্র পেটে ব্যথা। সুনির্দিষ্ট তদন্ত ছাড়া অসুস্থতার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা না গেলেও প্রাথমিকভাবে এটি ফুড পয়জনিং বা খাদ্যজনিত অসুস্থতা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের খাবার সরবরাহকারী বেসরকারি সংস্থা ‘গ্রাম উন্নয়ন কর্ম’ (গাক)-এর স্থানীয় গুদামে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে গুদামের ভেতর মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ উল্লেখবিহীন খাদ্যপণ্যের প্যাকেট পাওয়া যায়। এছাড়া গুদামের অভ্যন্তরে পয়োনিষ্কাশনের একটি পাইপ উন্মুক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাওয়া যায়, যা খাদ্য নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযুক্ত সংস্থাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। গাকের এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার এই অর্থ পরিশোধ করেন।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়িত্বে অবহেলা বা ত্রুটি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। এ ধরনের জনস্বাস্থ্য ও শিশুখাদ্য কর্মসূচিতে অনিয়ম রোধে কঠোর মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।