অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৯২ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল) অনুযায়ী বর্তমানে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৪৭৪ দশমিক ৯০ মিলিয়ন বা ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পাঁচ দিনে দেশে ৪৩ কোটি ৫৯ লাখ ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স অর্জিত হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং প্রবাস আয়ের ধারাবাহিক গতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বহিঃস্থ খাতের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত লেনদেন নিষ্পত্তি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবায়ন করা হচ্ছে। আইএমএফ-এর সুপারিশকৃত বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী রিজার্ভ গণনার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট খাতের দায় বাদ দেওয়া হয়, যা প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে। এর আগে গত মাসগুলোতেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং প্রবাসী আয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের পলিসিগত সহায়তা ও তদারকি জোরদার করেছিল। হুন্ডি বা অননুমোদিত চ্যানেলের পরিবর্তে বৈধ বা আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসীদের উৎসাহিত করায় ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই বৃদ্ধি দেশের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একটি দেশের অর্থনীতির শক্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য অনেকাংশেই নির্ভর করে তার বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের ওপর। পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকলে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্য এবং শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির এলসি বা ঋণপত্র খোলা সহজ হয়, যা দেশীয় বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবং পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ঋণমান ও আস্থার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পাঁচ দিনে আসা ৪৩ কোটি ৫৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্সের দেশীয় মুদ্রাবান্ধব মূল্যায়ন অনুযায়ী যার পরিমাণ পাঁচ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে বিভিন্ন দেশের মুদ্রাবাজার ও বৈদেশিক বাণিজ্যে নানা ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে, সেখানে বাংলাদেশের রিজার্ভের এই ইতিবাচক গতিশীলতা স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বৈদেশিক মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সকল নীতিগত পদক্ষেপ ও নজরদারি ভবিষ্যতেও বলবৎ থাকবে।