আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের ফোগো দ্বীপে একটি পাহাড়ি সড়কে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৩০ মিটার গভীর খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীর সংখ্যাই সর্বাধিক। পাহাড়ি সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় শনিবার রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, শনিবার রাতে চা দাস কালদেইরাস এলাকা থেকে সাঁও ফিলিপে শহরের দিকে যাচ্ছিল যাত্রীবাহী বাসটি। পাহাড়ি বাঁক নেওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি প্রায় ৩০ মিটার গভীর খাদে গিয়ে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে চালকসহ মোট ৩২ জন আরোহী ছিলেন। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করতে কিছুটা বেগ পেতে হয় উদ্ধারকর্মীদের।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই বাসচালকসহ বেশিরভাগ যাত্রী প্রাণ হারান। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের যাতায়াত ব্যবস্থা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের সড়কগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়টি এই দুর্ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনগুলোর ফিটনেস এবং চালকদের দক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনীতি ও জনজীবন অনেকাংশেই পর্যটন এবং অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের ওপর নির্ভরশীল, তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ ধরনের পাহাড়ি সড়কগুলো প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে কেপ ভার্দে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত গতি নাকি পাহাড়ি সড়কের বেহাল দশার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া, দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে পুরো দেশে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে কেপ ভার্দে সরকার। শোকের এই দিনগুলোতে রাষ্ট্রীয় ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং বিভিন্ন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।